ছোট বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে - Birth Certificate in Bangladesh (2025)
শিশুর পরিচয় পত্রের জন্য জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অনেক। একটি শিশুর জীবনের প্রায় বেশিরভাগ কাজেই জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব রয়েছে। জন্ম নিবন্ধন জাতীয় পরিচয় পত্রের মতোই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এখানে নাগরিকের সব ডকুমেন্টস বা প্রমাণপত্র দেয়া থাকে। সুতরাং আপনার শিশুর জন্মের পরই অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি জন্ম নিবন্ধন করা আপনার নিজস্ব দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
আশা করছি শিরোনাম দেখে আপনারা বুঝে গেছেন আজ আমি কি নিয়ে আলোচনা করবো। আজ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো একটি শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে?
আশা করছি আমার এই আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক সাহায্য করবে শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে। আমার আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন তবেই আপনি বিস্তারিত ভাবে সব জানবেন।
জন্ম নিবন্ধন কি?
What is birth certificate?
শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক জন্ম নিবন্ধন আসলে কি? একটি শিশুর জন্মের পর সরকারি রেজিস্টারে সেই শিশুর যাবতীয় তথ্যাবলি অন্তর্ভুক্ত করানোকেই আমরা জন্ম নিবন্ধন বলে জানি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে শিশুর জাতীয়তা নিশ্চিত করার প্রথম ধাপই হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন। বুঝতেই পাচ্ছেন একটি শিশুর জন্য জন্ম নিবন্ধন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
What are the requirements for application of birth certificate?
বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে?
বয়স ০ থেকে ৪৫ দিন হলে
চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক বয়স ০ থেকে ৪৫ দিনের বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দরকার পড়ে।
আবেদন ফরম এর সাথে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
ইপি. আই অর্থাৎ টিকার কার্ড।
আবেদনকারীর পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ( বাংলা এবং ইংরেজি বাধ্যতামূলক) সহ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
বাসার হোল্ডিং নাম্বার এবং হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ হাল সন সহ লাগবে।
আবেদনকারী/ অভিভাবকের মোবাইল নম্বর।
৪৬ দিন বয়স হতে ৫ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে?
এবার আমরা জানবো ৪৬ থেকে ৫ বছর অবধি বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে কি কি জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয়।
আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি।
বাচ্চার এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সহ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
ইপি. আই কার্ডের ফটোকপি।
বাসার হোল্ডিং নাম্বার এবং হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ হাল সন সহ লাগবে।
আবেদনকারী/ অভিভাবকের মোবাইল নম্বর।
বয়স ৫ বছরের অধিক হলে কি কি লাগে?
আবেদনকারীর বয়স ৫ বছরের অধিক হলে যা লাগবে তা নিচে দেওয়া হলো
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (পিএসসি/জেএসসি/ এসএসসি) শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র যদি না থাকে তবে সরকারি হসপিটালের এমবিবিএস ডাক্তার সাক্ষর ও সীল সহ প্রত্যায়ন পত্র এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১নং কলামের সাক্ষর এবং সীল আবশ্যক।
যাদের জন্ম ০১/০১/২০০১ এর পর তাদের পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয় পত্র।
যাদের জন্ম ০১/০১/২০০১ এর পূর্বে সে ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
যদি আবেদনকারীর জন্য ০১/০১/২০০১ এর পূর্বে হয় সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা মৃত হলে তাদের মৃত্যু সনদ।
আবেদনকারীর জন্য ০১/০১/২০০১ এর পরে হয়েও যদি পিতা-মাতা মৃত হয় তবে প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং পরে মৃত্যু সনদ দিতে হবে।
বাসার হোল্ডিং নাম্বার এবং হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ হাল সন সহ লাগবে।
অভিভাবকের মোবাইল নম্বর।
আবেদনের সাথে সম্পর্কিত তথ্য এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাক্ষর ও সীল আবশ্যক।
আবেদনের সাথে সংযুক্ত তথ্য জমা দেওয়ার সময় অবশ্যই আসল কপি জমা দিতে হবে।
জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ফি কত লাগে?
Fee required for birth certificate?
আপনাদের অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সেটি হলো 'জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরির জন্য কোনো ফি লাগে কিনা? আর লাগলেও কত?। আপনাদের জানানোর জন্য আমি এবার সেটিই আলোচনা করবো। জেনে নেওয়া যাক জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ফি কত।
৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি নির্ধারিত নেই। তা বিনামূল্যেই করা যাবে।
৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি ২৫০০ টাকা। যদি দেশের বাহিরে থেকে করা হয় তবে ১ মার্কিন ডলার নির্ধারিত।
বাংলা বা ইংরেজি অর্থাৎ দুই ভাষাতেই মূল সনদ পেতে বা তথ্য সংশোধনের পর সনদের কপি সম্পূর্ণ ফ্রিতে করা যাবে।
জন্ম সনদ সংশোধন ফি নির্ধারিত ১০০ টাকা এছাড়া দেশের বাহিরে থাকলে ২ মার্কিন ডলার।
জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন ২০২২ইং
Application for Birth certificate
আপনারা অনেকেই সঠিক ভাবে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে জানেন না। জন্ম নিবন্ধনের জন্য কিভাবে আবেদন করবেন তা নিচে দেওয়া হলো-
বর্তমান সময়ে পূর্বেকার মতো হাতে লিখে জন্ম নিবন্ধন ফরম পূরণ করা সম্ভব হয় না। আপনাদের অবশ্যই অনলাইনের সাহায্য ফরম পূরণ করতে হবে। জন্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ অনুযায়ী জন্মের পর ৪৫ দিনের ভেতর জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।
জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে আপনাকে কি কি করতে হবে?
Birth certificate application
জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে আপনাদের অবশ্যই বেশ কিছু জিনিস লাগবে। আপনাদের জানিয়ে দেওয়ার জন্য আমি এখন উক্ত বিষয়টি আলোচনা করছি।
আবেদনকারীর অর্থাৎ শিশুর জন্মস্থান নির্ধারণ করতে হবে।
শিশুর পিতা-মাতার যাবতীয় তথ্যাবলি।
শিশুর স্থানী এবং বর্তমান ঠিকানা।
যিনি আবেদন করবেন তার তথ্য(যেমন বাবা হলে বাবার তথ্য সম্পর্কে অন্য কেউ হলে তার)।
সকল প্রকার কাগজপত্র এবং ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত অফিস কর্তৃক যাচাই-বাছাই করে ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে।
জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের শর্তাবলি কি কি?
জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে যেমন কতগুলো ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করতে হয় তেমনি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের সময়ই করতে হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের শর্তাবলি সমূহ-
জন্ম নিবন্ধনে পিতা-মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে তাদের অনলাইন নিবন্ধিত জন্ম সনদের নম্বর দিয়ে নাম সংশোধন করা যাবে। এভাবেই নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা যাবে।
যদি পিতা-মাতার জন্ম সনদ না থাকে তবে আবেদনকারীর জন্ম ২০০১ এর আগে হলে তার জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের সময় পিতা-মাতার নাম সংশোধন করে নেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কেউ মৃত হলেও কোনো প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন পড়বে না।
কিন্তু আবেদনকারীর জন্ম যদি ২০০১ এর পর হয় তবে নিবন্ধন সংশোধনের সময় পিতা কিংবা মাতার নাম সংশোধনের সময় তাদের প্রয়োজনীয় প্রমাণ পেশ করতে হবে।
জন্ম নিবন্ধন নিয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর
Some questions and answers about birth certificate
জন্ম নিবন্ধন নিয়ে আপনাদের অনেকের মনেই অনেকগুলো ছোট ছোট প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। এবার জেনে নিন আপনাদের মনের কোনে উঁকি মারা প্রশ্ন গুলোর উত্তর।
প্রশ্নঃ শিশুর জন্ম নিবন্ধন করার সঠিক সময় কখন?
উত্তরঃ শিশুর জন্মের ১ দিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে কিংবা ৪৬ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে।
প্রশ্নঃ নতুন জন্ম নিবন্ধন কোথায় করবো?
উত্তরঃ নিকটস্থ সিটি করপোরেশন/ পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
প্রশ্নঃ আবেদনের কতদিন পর জন্ম নিবন্ধন পাওয়া যায়?
উত্তরঃ সমস্ত তথ্য জমা দেওয়ার পর কতৃপক্ষ কতৃক যাচাই-বাছাইয়ের ৫ কর্ম দিবস পর জন্ম নিবন্ধন প্রদান করা হয়।
প্রশ্নঃ একজন ব্যক্তির কি একাধিক জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে পারবে?
উত্তরঃ অবশ্যই না। এটি দন্ডায়মান অপরাধ।
প্রশ্নঃ অনলাইনে বাংলা লেখার জন্য কি করতে হবে?
উত্তরঃ অনলাইনে বাংলা লিখতে আপনাকে অবশ্যই ইউনিকোড ফন্ট ইউজ করতে হবে।
